প্রিয় শিক্ষার্থীরা,আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো,সুস্থ্য আছো।আজ আমরা নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় :গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো অলোচনা করব।তোমরা মনোযোগ দিয়ে বিষয়গুলো পড়বা এবং মুখস্ত করে ফেলবা।কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে অথবা ভিডিও ক্লাস দরকার হলে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট করে ফেলো।তো চলো শুরু করা যাক।
নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায়
নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক হলো শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য ।আমরা প্রথমে এটা দিয়েই শুরু করছি।
১।শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য:
শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি জীবজগৎ এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
২।জীবজগৎকে ২টি সুপার কিংডমে ভাগ করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস।
আর,এইচ, হুইটেকার ১৯৬৯ সালে জীবজগতকে পাঁচটি রাজ্যে বা ফাইভ কিংডমে ভাগ করার প্রস্তাব করেন।পরে মারগুলিস ও হুইটেকার মিলে পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রুপ দেন।
a.Super Kingdom 1: প্রোক্যারিওটা (আদিকোষি)– এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই,এককোষী, আণুবীক্ষণিক জীব।
(বিঃদ্রঃ তোমরা নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় এর প্রতিটি রাজ্যের কমপক্ষে ৪টি বৈশিষ্ট্য ও ২টি উদাহরণ মুখস্ত রাখার চেষ্টা করবা)
(i) রাজ্য 1: মনেরা (Monera)
বৈশিষ্ট্য: ১.এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস কলোনিয়াল।
২.কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩.কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে।
৪.কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫.প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
উদাহরণ:ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল।
(b) সুপার কিংডম 2: ইউক্যারিওটা (Eukaryota)- এরা প্রকৃতকোষ (নিউক্লিয়াস সুগঠিত) বিশিষ্ট এককোষী বা বহুকোষী জীব। এরা এককভাবে অথবা কলোনি আকারে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে।
(i) রাজ্য-2: প্রোটিস্টা (Protista)
বৈশিষ্ট্য: ১.এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
২.কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
৩.কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
৪.খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
৫.মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে।এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
৬.কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না।
উদাহরণ: প্যারামেসিয়াম,অ্যামিবা, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল।
(ii) রাজ্য 3: ফানজাই (Fungi)
বৈশিষ্ট্য: ১.অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২.দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। ৩.এগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪.কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫.খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬.ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭.হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
উদাহরণ: Penicillium,ইস্ট, মাশরুম ইত্যাদি
[নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায় এ যে পাচটি রাজ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারমধ্যে প্লানটি এবংঅ্যানিমেলিয়া আমাদের কাছে বেশি পরিচিত।]
iii) রাজ্য 4: প্লানটি (Plantae)
বৈশিষ্ট্য: ১.এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
২.এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৩.এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
৪.প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে।
৫.এদের যৌন জনন অ্যানাইসোেগ্যামাস (anisogamous) অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
৬.এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।
৭.এরা সপুষ্পক।
উদাহরণ: উন্নত সবুজ উদ্ভিদ।
- iv) রাজ্য 5:
অ্যানিমেলিয়া
(Animalia)
বৈশিষ্ট্য: ১.এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী।
২.এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই।
৩.প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৪.এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর জনানঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
৫.ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: প্রোটোজোয়া ব্যতীত সকল অমেরুদণ্ডী এবং মেরুদণ্ডী প্রাণী।
তোমরা চাইলে আমাদের ফেসবুক পেজটি ফলো দিয়ে রাখতে পারো।ফলে বিশেষ প্রয়োজনে আমাদের সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবা।
Facebook: EduEnrich With Emon
নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ১ম অধ্যায়
1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন। এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।এ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি জীবের:
দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
(a) নামকরণ ল্যাটিন ভাষায় কিংবা ল্যাটিন ভাষার মতো করে উপস্থাপন করতে হবে।
(b) বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন: Labeo rohita। এটি রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Labeo গণ এবং rohita প্রজাতিক পদ।
(c) জীবজগতের প্রতিটি বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য (unique) হতে হয়। কারণ, একই নাম দুটি পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
(d) বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে।
যেমন: পিঁয়াজ Allium cepa, সিংহ Panthera leo
(e) বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন: ধান Oryza sativa, কাতল মাছ Catla catla
(f) হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন: Oryza sativa, Catla catla
(g) যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী একই জীবকে বিভিন্ন নামকরণ করেন, তবে অগ্রাধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
(h) যিনি প্রথম কোনো জীবের বিজ্ঞানসম্মত নাম দিবেন। তাঁর নাম প্রকাশের সালসহ উক্ত জীবের বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষেপে সংযোজন করতে হবে। যেমন: Homo sapiens L., 1758, Oryza sativa L., 1753 (এখানে L লিনিয়াসের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ, তবে দৈনন্দিন গবেষণা ও পাঠে এটুকু অনেক সময় লেখা হয় না)।



Pingback: নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ৩য় অধ্যায় - Janbe Tumio
Pingback: ssc জীব বিজ্ঞান ৪র্থ অধ্যায় - Janbe Tumio
Pingback: ssc জীববিজ্ঞান ৫ম অধ্যায় - Janbe Tumio