পড়া মনে রাখার সহজ উপায়গুলো – স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কার্যকর টিপস

 

আজ আমরা পড়া মনে রাখার সহজ উপায়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।তবে পড়া মনে রাখার সহজ উপায়গুলো সম্পর্কে জানার পূর্বে আমাদের ব্রেইন কিভাবে কোনোকিছু মনে রাখে সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

মনে কর ,আজ সকালে রাস্তায় বেরিয়ে তুমি আবুল নামের এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়েছো। এক্ষেত্রে তোমার ব্রেইন আবুলের সাথে পরিচয় হওয়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামক স্থানে আবুলের নামে একটা ফোল্ডার তৈরি করে ফেলবে। আমাদের হিপো ক্যাম্পাসে এরকম বিভিন্ন ফোল্ডারে সারি সারি ফাইল সাজানো আছে। এখন কেউ যদি তোমাকে আবুল সম্পর্কে প্রশ্ন করে তাহলে ব্রেইন সেখানে গিয়ে আবুলের ফাইলটি তাড়াতাড়ি খুজে আনার চেষ্টা করে। যাদের কোন কিছু সহজে মনে থাকে না তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো ব্রেইন হিপোক্যাম্পাস থেকে সহজে তথ্যগুলো খুঁজে আনতে পারে না। 

নবম দশম শ্রেণির গণিত সমাধান পেতে এখনই ঢু মেরে আসো নিচের ইউটিউব চ‌্যানেলে:

Education With Emon

 

আমাদের পড়া মনে রাখার বিষয়টিও কিছুটা এরকম। আমরা যখন কোন কিছু পড়ি তখন সেগুলো আমাদের মেমোরিতে জমা হয়। 

 

চলো জেনে নেওয়া যাক পড়া মনে রাখার সহজ উপায় গুলো সম্পর্কে –

 

১।উপযুক্ত পরিবেশে পড়তে বসা

পড়ার জায়গাটি অবশ্যই নিরিবিলি  ও কোলাহলমুক্ত হতে হবে। কোলাহলযুক্ত পরিবেশে একাগ্র চিত্রে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে যায় এবং সেই পড়াশোনা বেশিক্ষণ মনে থাকেনা।

 

২।পড়ার জন্য উপযুক্ত সময় নির্বাচন

গবেষণায় দেখা গেছে ভোর বেলায় সাধারণত আমাদের মস্তিষ্ক অধিক সক্রিয় থাকে। এ সময় পড়লে তা সহজে মুখস্ত হয় কোন সময় পড়লে তোমার জন্য তা মনে রাখতে সহজ হচ্ছে, তোমাকে সেই সময়েই  পড়তে বসতে হবে। 

 

৩।নির্দিষ্ট সময় পর পর রিভিশন দেওয়া

বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে কোনকিছু মুখস্ত করার এক ঘন্টার মধ্যেই আমরা তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ পার্সেন্ট ভুলে যাই।পড়া মুখস্ত রাখার জন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন শুধু রিভিশনের জন্য রাখতে হবে। এই দিন তুমি পুরনো সব পড়া পুণরায় পড়বে, সকল পুরনো অংক গুলো দেখে ফেলবে।তাহলে এগুলো তুমি সহজে ভুলবে না। 

 

৪।বুঝে বুঝে পড়া

কোন কিছু বুঝে বুঝে পড়লে তা আমাদের মস্তিষ্কে তুলনামূলকভাবে অধিক স্থায়ী হয়। মনে করো,তুমি অভিকর্ষজ ত্বরণ কাকে বলে তা মুখস্থ করতে চাও। তাহলে তোমার উচিত হবে প্রথমে অভিকর্ষ বল ও ত্বরণ কাকে বলে সেটি জেনে নেওয়া।এরপর অভিকর্ষজ ত্বরণ সম্পর্কে পড়তে বসলে সেটা তোমার জন্য মুখস্ত করার সহজ হবে এবং সেটি দীর্ঘদিন ধরে মনে রাখতে পারবে। 

পড়া মনে রাখার সহজ উপায়

৫।পড়ার  মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া

আমাদের মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট একই রকম মনোযোগের সহিত কোন কাজ করতে পারে। কোন কোন গবেষণায় দেখা গেছে একই উদ্যোগের শহীদ কোন পড়া আপনার সাধারণত সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট পড়তে পারে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট একাধারে পড়ার পর পাঁচ মিনিটের একটি বিরতি নিলে তা আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই পাঁচ মিনিটে তুমি তোমার আম্মুর রান্নার কাজে সাহায্য করতে পারো, কোন পছন্দের খাবার খেতে পারো অথবা একটু হাটাহাটি করে নিতে পারো। 

 

৬।পড়ার সময় ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখা

পড়ার সময় মোবাইল ল্যাপটপ বা মনোযোগ নষ্ট করতে পারে এমন সকল ডিজিটাল ডিভাইস অবশ্যই দূরে রাখতে হবে।ল্যাপটপের একটি কি টিং টিডিং শব্দ অথবা মোবাইলের একটি টু টাং মেসেজ তোমার পড়াশোনার সমস্ত মনোযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। এ কারণে পড়তে বসার শুরুতে অবশ্যই এই ডিভাইস গুলোকে দূরে কোথাও রাখতে হবে অথবা সাইলেন্ট করে রেখে দিতে হবে যাতে তোমার পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। 

সহজে পড়া মুখস্ত করব কিভাবে

৭।অন্যকে বোঝানো

পদার্থবিদ ফাইনম্যান এ পদ্বতি আবিষ্কার করেন।তিনি প্রমাণ করে দেখান যে, কোনোকিছু নিজে শিখে তা অন্যকে সহজভাবে বোঝালে তা দীর্ঘ সময় মনে থাকার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এ কারণে কোনো পড়া শেষ হলে অথবা নতুন কোনো গণিত শিখলে তুমি তা তোমার সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করতে পারো। ফলে এটি দীর্ঘদিন মনে রাখা তোমার জন্য সহজ হবে।  

 

৮।পর্যাপ্ত ঘুমানো

মনোবিজ্ঞানী জেসিকা পেইন ও তার কয়েকজন সহকর্মী মিলে এক গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে,পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট সময় ঘুমালে তা পড়া মনে রাখতে বেশ সহায়তা করে ধরে পড়ার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে হবে। রাতে কমপক্ষে ৭-৯ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

 

৯।ব্রেইনের জন্য উপকারী খাবার গ্রহণ

ব্রেইনের জন্য উপকারী খাবার যেমন-মাছ,বিশেষ করে সামুদ্রিক চর্বিযুক্ত মাছ, ডিম,বাদাম ও বীজ, সবুজ শাক-সবজি ও ফলমূল নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। এগুলো আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেলে আমাদের জন্য পড়া মনে রাখা সহজ হয়। 

সহজে পড়া মুখস্ত করব কিভাবে

 

১০।নিয়মিত ব্যায়াম করা

সারভিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। শরীর ও মন সুস্থ থাকলে পড়ায় মন বসানো সহজ হয়।ফল দীর্ঘসময় ধরে ফোকাস ঠিক রেখে মনোযোগের সাথে পড়লে সেই পড়া মনে রাখা সহজ হয়।

 

১১।নামাজ প্রার্থনা

বিভিন্ন গবেষণায় উঠেছে নিয়মিত নামাজ বা প্রার্থনা বা উপাসনা মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাথে সাথে এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পেলে আমাদের জন্য পড়া মনে রাখার সহজ হয়। এই কারণে নিয়মিত যার যার ধর্মীয় বিধি-নিষেধ পালন করতে হবে। 

 

Leave a Reply

Scroll to Top