আজ আমরা SSC পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় -গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর গুলো পড়ার চেষ্টা করব। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা মনোযোগ দিয়ে এ প্রশ্নগুলো পড়বে এবং দরকার হলে খাতায় লিখে রাখবে এবং সেগুলোর উত্তর মুখস্ত করার চেষ্টা করবে। তো চলো নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তরগুলো পড় ফেলি।
SSC পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় -গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১।বোতলের ছিপিতে খাঁজ কাটা থাকে কেন?
বোতলের ছিপি মসৃণ হলে তাতে সৃষ্ট ঘর্ষণ বলের মান অনেক কম হতো। কিন্তু ছিপিতে খাঁজকাটা থাকায় হাত দিয়ে যখন ছিপি ঘুরানো হয় তখন হাতের তালু এবং ছিপির মধ্যে ঘর্ষণ বলের মান অনেক বেশি হয়। ফলে সহজেই ছিপিকে খোলা যায়। অর্থাৎ, বোতলের ছিপি এবং হাতের মধ্যে ঘর্ষণ বল সর্বোচ্চ করার জন্য বোতলের ছিপিতে খাঁজ কাটা থাকে
২।একটা গাছের গুড়িকে দড়ি দিয়ে টেনে নেয়ার চেয়ে ঠেলা গাড়িতে উঠিয়ে টেনে নেওয়া সহজ কেন? ব্যাখ্যা কর।
একটি গাছের গুড়িকে যদি আমরা দড়ি দিয়ে বেঁধে তল বরাবর টানি তাহলে তা তলের সাথে একটি ঘর্ষণ বল তৈরি করবে। আবার, ঐ গুড়িকে যদি ঠেলা গাড়িতে তুলে টেনে নেওয়া হয়, তাহলে ঠেলা গাড়ির চাকাও তল বরাবর এক ধরনের ঘর্ষণ বল উৎপন্ন করবে। যার মান দড়ি দিয়ে টানার থেকে কম। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গাছের গুড়িটি টেনে নিয়ে আসা অধিকতর সহজ হবে। এজন্য আমরা বলতে পারি, একটি গাছের গুড়িকে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নেওয়ার চেয়ে ঠেলা গাড়িতে তুলে টেনে নেওয়া সহজ।
৩।ঘড়ির কাটার গতি পর্যায়বৃত্ত গতি না ঘূর্ণন গতি ব্যাখ্যা কর।
ঘড়ির কাঁটা তার গতিপথের নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর (60 s, 1 hour, 12 hours) একই দিক থেকে অতিক্রম করে। তাই ঘড়ির কাঁটার গতি পর্যাবৃত্ত গতি। আবার, কোনো কিছু যদি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর সমদূরত্বে থেকে ঘুরতে থাকে তাহলে সেটাকে বলে ঘূর্ণন গতি। ঘড়ির কাঁটার ক্ষেত্রেও একটা নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘড়ির কাঁটাগুলো সমদূরত্বে থেকে ঘুরতে থাকে। ফলে ঘড়ির কাঁটার গতি ঘূর্ণন গতি। অর্থাৎ, ঘড়ির কাঁটার গতি যেমন ঘূর্ণন গতি তেমন পর্যায়বৃত্ত গতিও।
৪।কর্দমাক্ত রাস্তায় আমরা পিছলে যাই কেন? বুঝিয়ে লেখ।
রাস্তায় হাঁটার সময় রাস্তা ও পায়ের তলার মধ্যে যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় তার জন্য আমরা চলতে পারি। কিন্তু রাস্তা কর্দমাক্ত হলে রাস্তা ও পায়ের তলার মধ্যকার ঘর্ষণ বল হ্রাস পায়। এর ফলে কর্দমাক্ত রাস্তায় আমরা পিছলে যাই।
৫।সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না -ব্যাখ্যা কর।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দিকে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। সরণ হলো একটি ভেক্টর রাশি। আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মধ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্বই হলো সরণ। অর্থাৎ বস্তু কোন পথে আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানে পৌছালো তার সাথে সরণের সম্পর্ক নেই। এজন্য সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না।
নবম দশম শ্রেণির গণিত সমাধান পেতে এখনই ঢু মেরে আসো নিচের ইউটিউব চ্যানেলে:
- Class Nine Ten Math chapter 16 solution
- class nine ten math chapter 9 solution
- Class nine ten math chapter 2 solution
- SSC Biology Chapter 5
৬।মসৃণ রাস্তায় ব্রেক করলে চলন্ত গাড়ির চাকা পিছলিয়ে যায় কেন?
রাস্তায় গাড়ি চলার সময় রাস্তা ও গাড়ির চাকার মধ্যে যে ঘর্ষণ বল তৈরি হয় তার জন্য গাড়ি চলতে পারে। কিন্তু রাস্তা মসৃণ হলে রাস্তা ও গাড়ির চাকার মধ্যকার ঘর্ষণ বল হ্রাস পায়। এর ফলে মসৃণ রাস্তায় চলন্ত গাড়ি ব্রেক করলে গাড়ি সাথে সাথে না থেমে কিছুটা পিছলে যায়।
৭।সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যায়বৃত্ত গতি। নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথে কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তাহলে সেই গতিকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। সূর্যের পৃথিবীর চারদিকে ঘুরার সময় কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে। উদাহরণস্বরূপ পৃথিবী প্রায় 365 দিন পর পর সূর্যকে একই অবস্থানে একই দিক হতে অতিক্রম করে। তাই সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যাবৃত্ত গতি।
৮।বস্তুর স্মরণ তার গতিপথের উপর নির্ভর করে না- ব্যাখ্যা কর।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দিকে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকে সরণ বলে। সরণ হলো একটি ভেক্টর রাশি। আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মধ্যবর্তী সরলরৈখিক দূরত্বই হলো সরণ। অর্থাৎ বস্তু কোনো পথে আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানে পৌছালো তার সাথে সরণের সম্পর্ক নেই। এজন্য সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না।
৯।বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেলের গতি পর্যায়বৃত্ত গতি -ব্যাখ্যা কর.।
পর্যায়বৃত্ত গতির সংজ্ঞা থেকে আমরা জানি, যে, কোনো গতিশীল বস্তুকণা তার গতিপথের একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তাকে পর্যায়বৃত্ত গতি বলে। সেক্ষেত্রে বৃত্তাকার পথে সমদুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেলের গতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এটি তার গতিপথের একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে। অর্থাৎ, বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতিতে ঘূর্ণায়মান সাইকেলের গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি।
১০।সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কম ক্লান্তি অনুভব হয় -ব্যাখ্যা কর.।
সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠতে দেহের অভিকর্ষ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। ফলে অভিকর্ষ বলের বিপরীতে বল প্রয়োগ করে ছাদে উঠতে হয়। তাছাড়া ছাদে উঠার সময় প্রতিনিয়ত দেহে বিভবশক্তি জমা হতে থাকে। এ কারণে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠতে দেহের বেশি ক্লান্তি লাগে। কিন্তু নামার সময় দেহের কোনো বল প্রয়োগ করতে হয় না। এক্ষেত্রে অভিকর্ষজ বল দ্বারাই কাজ সম্পাদিত হয়। তাছাড়া নামার সময় দেহের মধ্যে সঞ্চিত বিভবশক্তি কমতে থাকে। ফলে সিড়ি দিয়ে নামার সময় ক্লান্তি কম অনুভব হয়।
১১।বস্তুর ওজন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয় কেন?ব্যাখ্যা কর।
বস্তুর ওজন অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে। পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার না হওয়ায় এর ব্যাসার্ধ সর্বত্র সমান নয়। মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ সবচেয়ে কম এবং বিষুব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। ফলে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান সবচেয়ে বেশি এবং বিষুব অঞ্চলে সবচেয়ে কম হয়। এজন্যই বস্তুর ওজন পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়।
১২।শক্তির রূপান্তরের কারণে পরিবেশের উপর কিরূপ প্রভাব পড়ছে? ব্যাখ্যা কর।
শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপ শক্তি তৈরি হয় তখন কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। অর্থাৎ এই গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। এই বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। অতএব, শক্তির রূপান্তরের কারণে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
১৩।এ মহাবিশ্বের সকল স্থিতিই আপেক্ষিক, সকল গতিই আপেক্ষিক -ব্যাখ্যা কর।
একটি বস্তু স্থিতিশীল না গতিশীল তা বুঝার জন্য এর আশেপাশে থেকে আর একটি বস্তুকে নিতে হবে যাকে আমরা প্রসঙ্গ বস্তু বলতে পারি। এ প্রসঙ্গ বস্তু ও বস্তুর অবস্থান যদি সময়ের সাথে অপরিবর্তিত থাকে তাহলে বস্তুটি প্রসঙ্গ বস্তুটির সাপেক্ষে স্থির বলে ধরা হয়। বস্তু ও প্রসঙ্গ বস্তু যদি একই দিকে একই বেগে চলতে থাকে তাহলেও সময়ের সাথে এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না, যদিও প্রকৃতপক্ষে বস্তুটি গতিশীল। কিন্তু পৃথিবী, গ্রহ, উপগ্রহ সর্বদা গতিশীল। তাই এই মহাবিশ্বে প্রকৃত কোনো স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো পাওয়া সম্ভব নয়। একারণে মহাবিশ্বের যেকোনো বস্তুর সাপেক্ষেই বিবেচনা হোক না কেন তা পরম স্থিতি নয়।
অতএব, আমরা বলতে পারি এ মহাবিশ্বের সকল স্থিতিই আপেক্ষিক, সকল গতিই আপেক্ষিক।
১৪।সমদ্রুতিতে চলমান বস্তুর সরণ শূন্য হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
দ্রুতি হচ্ছে সময়ের সাথে দূরত্ব পরিবর্তনের হার। অর্থাৎ কোনো বস্তুর একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্বই দুতি। আবার দূরত্ব অতিক্রমের হার সবসময় সমান থাকলে তাকে সমদুতি বলে। অর্থাৎ সমদ্রুতিতে চলমান বস্তু একক সময়ে সর্বদা সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। তবে এক্ষেত্রে দিক নির্দিষ্ট নয়। অর্থাৎ, সমদুতিতে চলমান একটি বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো একদিকে গিয়ে আবার সমপরিমাণ সময় পূর্ব গতির বিপরীত দিকে গেলে তার আদি ও শেষ অবস্থান একই হবে। অর্থাৎ বস্তুটির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। আবার আমরা জানি, কোনো বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের মধ্যবর্তী লম্ব দূরত্বই বস্তুটির সরণ। তাহলে উপরোক্ত ক্ষেত্রে সমদ্রুতিতে চলমান বস্তুটির সরণ শূন্য হবে। তবে এছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সমদ্রুতিতে চলমান বস্তুর সরণ শূন্য হবে না।
SSC পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় -গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
১৫।মুক্ত ভাবে পড়ন্ত বস্তুর সরণ পরিবর্তনের হার একই থাকে না কেন?ব্যাখ্যা কর।
আমরা-জানি, কোনো বস্তু মুক্তভাবে নিচের দিকে পড়তে থাকলে বস্তুটির উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ ক্রিয়া করে। আর, অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে পড়ন্ত বস্তুর সরণ পরিবর্তনের হার অর্থাৎ বেগ বৃদ্ধির হারই হলো অভিকর্ষজ ত্বরণ। এখান থেকে এটা স্পষ্ট যে, স্থির অবস্থা থেকে কোনো বস্তু নিচের দিকে পড়তে থাকলে, এর সরণ পরিবর্তনের হার অর্থাৎ বেগ বৃদ্ধি পায়। পড়ন্ত বস্তুর ২য় সূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে, বিনা বাধায় পড়ন্ত বস্তুর বেগ, সময়ের সমানুপাতিক। অর্থাৎ সময় বাড়লে বেগ বৃদ্ধি পায়।
অতএব, আমরা বলতে পারি যে, স্থির অবস্থা থেকে কোনো বস্তু মুক্তভাবে নিচে পড়তে থাকলে এর সরণ পরিবর্তনের হার অর্থাৎ বেগ একই থাকে না বরং বৃদ্ধি পায়।
১৬।অভিকর্ষজ ত্বরণ সমত্বরন কেন? ব্যাখ্যা কর।
কোনো বস্তুর বেগ যদি নির্দিষ্ট দিকে সবসময় একই হারে বাড়তে থাকে তাহলে সে ত্বরণকে সুষম ত্বরণ বা সমত্বরণ বলে। অর্থাৎ বেগ বৃদ্ধির হার সমান হলেই তা সুষম ত্বরণ, অভিকর্ষের প্রভাবে মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর ত্বরণ সুষম ত্বরণ। কারণ বস্তুটি যখন ভূপৃষ্ঠের দিকে আসবে তখন এর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 9.8 ms¯¹ করে বাড়তে থাকবে।
১৭।নিক্ষিপ্ত বস্তুর ত্বরণ ঋণাত্মক হয় কেন?ব্যাখ্যা কর।
আমরা জানি, নিক্ষিপ্ত বস্তুর ক্ষেত্রে অভিকর্ষ বলের বিপরীতে বস্তুর সরণ ঘটে। ফলে সময়ের সাথে সাথে বস্তুর বেগ হ্রাস পেতে থাকে। খাড়াভাবে নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এই বেগ হ্রাসের হার প্রতি সেকেন্ডে 9.8 m s¹। আবার বেগ পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। অর্থাৎ নিক্ষিপ্ত বস্তুর ত্বরণ ঋণাত্মক হয়। এর ফলে বস্তুটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে আবার ভূমিতে ফিরে আসে।
১৮।গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব কখনো শূন্য হয় না কিন্তু সরণ শূন্য হতে পারে -ব্যাখ্যা কর।
আমরা জানি, সরণ হচ্ছে নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব। এটি বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের মধ্যে রৈখিক দূরত্ব নির্দেশ করে। ফলে সরণ বস্তুর গতিপথের উপর নির্ভর করে না। অন্যদিকে দূরত্ব হচ্ছে বস্তুর অতিক্রান্ত পথের দৈর্ঘ্য। এটি গতিপথের উপর নির্ভর করে। এ কারণে বস্তু বৃত্তাকার পথে সম্পূর্ণ পথ ঘুরে পূর্বের অবস্থানে আসলে এর সরণ শূন্য হয়। কিন্তু এর দূরত্ব হয় বৃত্তাকার পথের পরিধি।
অতএব, বলা যায়, গতিশীল বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব শূন্য হয় না কিন্তু সরণ শূন্য হতে পারে।
১৯।দোলায়মান দোলনার গতি কোন ধরনের গতি? ব্যাখ্যা কর।
যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো এক দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে তাহলে তার গতি স্পন্দন গতি। দোলনা তার পর্যায়কালের অর্ধেক সময় যে দিকে চলে বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে চলে। এ কারণে দোলনার গতিকে স্পন্দন গতি বলা যায়।
২০।ঘড়ির কাটার গতি একটি পর্যায়বৃত্ত গতি কিন্তু স্পন্দন গতি নয় কেন?ব্যাখ্যা কর।
যদি কোনো বস্তু তার গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তবে বস্তুর ঐ গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। আর যে পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু তার পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় বিপরীত দিকে গতিশীল থাকে তবে তার গতিকে স্পন্দন গতি বলে। ঘড়ির কাঁটা একটি ধ্রুব বেগে সর্বদা একইদিকে গতিশীল থাকে বিধায় এর গতি পর্যাবৃত্ত গতি হলেও স্পন্দন গতি নয়।
২১।বালুতে হাঁটা কষ্টকর কেন?ব্যাখ্যা কর।
হাঁটার সময় আমাদের সমস্ত শরীরে গতি জড়তা কাজ করে। এ গতি জড়তা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তথা শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে। কিন্তু কোনো করণে সে গতি জড়তার সামঞ্জস্যতা হারিয়ে ফেললে আমরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। আমরা যখন হাঁটি তখন পেছনের পা দ্বারা মাটির উপর তির্যকভাবে বল প্রয়োগ করি। এ প্রযুক্ত বল হলো ক্রিয়া বল। কিন্তু বালুময় স্থানে তির্যক বল বা ক্রিয়া বল পরিবর্তন হয় তাই ক্রিয়া বল ও প্রতিক্রিয়া বলের সাম্যতা নষ্ট হয়। তাই বালুতে হাঁটা কষ্টকর।
২২।কম্পনশীল সুরশলাকার গতিকে স্পন্দন গতি বলা হয় কেন?
পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন কোনো কণা যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একদিকে চলে বাকি অর্ধেক সময় পূর্ব গতির বিপরীত দিকে চলে, তবে তার গতিকে স্পন্দন গতি বলে। সুরশলাকা, তার গতিপথের মধ্যবিন্দু হতে উভয় দিকে সরণের জন্য সমান সময় নেয় এবং দিক প্রথম দিকের বিপরীত হয়। সুতরাং বলা যায়, কম্পনশীল সুরশলাকার গতি স্পন্দন গতি।
২৩।সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যায়বৃত্ত গতি হলেও স্পন্দন গতি নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
যদি কোনো বস্তু তার গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পর পর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তবে বস্তুর ঐ গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। আর যে পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু তার পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একটি নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্বগতির বিপরীত দিকে গতিশীল থাকে তবে তার গতিকে স্পন্দন গতি বলে।
সূর্যের চারদিকে পৃথিবী একটি ধ্রুব বেগে সর্বদা একইদিকে গতিশীল থাকে বিধায় এর গতি পর্যাবৃত্ত গতি হলেও স্পন্দন গতি নয়।
২৪।তাৎক্ষণিক দ্রুতি বলতে কি বুঝ? ব্যাখ্যা কর।
গতিশীল কোনো বস্তুর কোনো একটি বিশেষ মুহূর্তের দ্রুতিকে তাৎক্ষণিক দ্রুতি বলে।
যেকোনো মুহূর্তে প্রকৃত বা তাৎক্ষণিক দ্রুতি বের করতে হলে আমাদেরকে অতি অল্প সয় ব্যবধানে অতিক্রান্ত দূরত্ব জানতে হবে। তারপর সেই দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে তাৎক্ষণিক দ্রুতি বের করতে হবে।দূরত্ব অর্থাৎ তাৎক্ষণিক দ্রুতি = দূরত্ব/সময়
২৫।”বেগের পরিবর্তন না হলে তরণীর পরিবর্তন হয় না”- ব্যাখ্যা কর।
বেগের পরিবর্তন হলেই শুধুমাত্র ত্বরণ সৃষ্টি হয়। বেগ পরিবর্তনের হারকে ত্বরণ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বেগের মান ভিন্ন হলে বেগের পরিবর্তন থেকে ত্বরণ নির্ণয় করা যায়। কিন্তু কোনো বস্তু যদি স্থির থাকে বা সমবেগে চলতে থাকে তখন বস্তুর বেগের কোনো পরিবর্তন হয় না। অর্থাৎ বেগের পরিবর্তন শূন্য। এক্ষেত্রে একক সময়ে বেগ পরিবর্তনের হার বের করলে এর মানও শূন্য হবে। আর ত্বরণ যেহেতু বেগের পরিবর্তনের হার তাই এসব ক্ষেত্রে ত্বরণের মানও শূন্য হবে। তাই বেগের পরিবর্তন হলেই শুধুমাত্র ত্বরণ সৃষ্টি হয়।
নিয়মিত আমাদের আপডেট পেতে পোশে থাকা বেল আইকনটি প্রেস করে রাখুন।ধন্যবাদ।

https://shorturl.fm/e3NUk