গত ক্লাসের বাকি অংশ এই পোস্টে যুক্ত করা হয়েছে। এই পোস্টে নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ২য় অধ্যায় এর বাকি অংশের গুরুত্বপূর্ণ টপিক এবং সে বিষয়ের ব্যাখ্যা পেয়ে যাচ্ছো।আমরা প্রথমে বেসিক নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি । প্রতিটি বিষয়ের বেসিক আলোচনা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সৃজনশীলের প্রস্তুতি শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।তোমাদের গণিত,পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নের ভিডিও ক্লাস পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ঢু মারতে পারো।
- নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ২য় অধ্যায়।।part-01
- Youtube Channel link: EduEnrich With Emon
নবম দশম শ্রেণির জীব বিজ্ঞান ২য় অধ্যায়।।Part -2
উদ্ভিদ টিস্যু (Plant tissue)
একই বা বিভিন্ন প্রকারের একগুচ্ছ কোষ একত্রিত হয়ে যদি একই কাজ করে এবং তাদের উৎপত্তিও যদি অভিন্ন হয়, তখন তাদের টিস্যু বা কলা বলে। টিস্যু দুই ধরনের, ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম কিন্তু স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজিত হতে পারে না।
স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের, যথা-
১।সরল টিস্যু
২।জটিল টিস্যু এবং
৩।নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু।
-
a) সরল টিস্যু (Simple tissue)
যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।
কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১.প্যারেনকাইমা
২.কোলেনকাইমা এবং
৩.স্কেলেরেনকাইমা।
প্যারেনকাইমা (Parenchyma):
১.এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ।
২.এই টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়।
৩.কোষপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলোজ দিয়ে তৈরি হয়। এসব কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন তাকে ক্লোরেনকাইমা (Chlorenchyma) বলে।
৪.জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ু-কুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে অ্যারেনকাইমা (Aerenchyma) বলে।
কোলেনকাইমা (Collenchyma):
১.এগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়।
২.কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয় এবং কোণাগুলোকে পার্শ্বের প্রাচীরের তুলনায় অধিক মোটা দেখায়। তবে এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো পেকটিন জমা হওয়ার কারণে অধিক পুরু হয়।
৩.এ টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সজীব।
৪.এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়।
স্কেলেরেনকাইমা (Sclerenchyma):
এ টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়। প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগনিনযুক্ত এবং যান্ত্রিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুকে ফ্লেরেনকাইমা টিস্যু বলে।
ফ্লোয়েম (Phloem):
সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু নিয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত হয়।
(i) সিভকোষ (Sieve cell):
এগুলো বিশেষ ধরনের কোষ। দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং জীবিত এ কোষগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি সজ্জিত হয়ে সিভনল (Sieve tube) গঠন করে। এ কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত সিভপ্লেট দিয়ে পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। সিভকোষে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর ঘেঁষে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয়, যেটা খাদ্য পরিবহনের নল হিসেবে কাজ করে। এদের প্রাচীর লিগনিনযুক্ত। পরিণত সিভকোষে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না। সকল ধরনের গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ এবং সিভনল থাকে। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহন করা এদের প্রধান কাজ।
(ii) সঙ্গীকোষ (Companion cell):
প্রতিটি সিভকোষের সাথে একটি করে প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষ অবস্থান করে। এদের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াস বেশ বড়। ধারণা করা হয় এই নিউক্লিয়াস সিভকোষের কার্যাবলি কিছু পরিমাণে হলেও নিয়ন্ত্রণ করে। এ কোষ প্রোটোপ্লাজম দিয়ে পূর্ণ এবং পাতলা প্রাচীরযুক্ত। ফার্ন ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে এদের উপস্থিতি নেই।
(iii) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchayma):
ফ্লোয়েমে উপস্থিত প্যারেনকাইমা কোষগুলোই ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা। এদের কোষ সাধারণ প্যারেনকাইমার মতো পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং প্রোটোপ্লাজমযুক্ত। এরা খাদ্য সঞ্চয় করে এবং খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। ফার্ন জাতীয় (Pteridophyta) উদ্ভিদ, নগ্নবীজী (Gymnosperm) উদ্ভিদ এবং দ্বিবীজপত্রী (Dicotyledonous) উদ্ভিদের ফ্লোয়েম টিস্যুতে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে। একবীজপত্রী উদ্ভিদে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে না।iv) ফ্লোয়েম ফাইবার বা তনু (Phloem fibre): স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে। পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়। এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতায় উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়।
লসিকা:
মানবদেহে বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে (Intercellular space) যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তাকে লসিকা বলে। এগুলো ছোট নালির মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে একটি আলাদা নালিকাতন্ত্র গঠন করে, যাকে লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) বলে। লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। এর মধ্যে কিছু রোগপ্রতিরোধী কোষ থাকে, এদের লসিকাকোষ (Lymphoid cell) বলে
আমাদের পরবর্তী আপডেট পাওয়ার জন্য পাশে থাকা বেল আইকনটি প্রেস করে রাখুন।



https://shorturl.fm/9D0B0
https://shorturl.fm/JmjLU